প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হলো খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা!
খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিচালক পদে অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিশ্চিত হওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে সারাদেশে হাজারো পরীক্ষার্থী চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কি কারণে বাতিল করা হলো?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। কয়েকটি টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে প্রশ্নপত্রের ছবি ঘুরতে দেখা গেলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমে কর্তৃপক্ষ প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পায়।
একাধিক গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিক্রির চেষ্টা করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ
পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসতেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভীড় করা হাজারো পরীক্ষার্থী হতবাক হয়ে পড়েন। অনেকেই বলেন,
“মাসের পর মাস কঠোর প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত মানা কঠিন।”
“প্রশ্নফাঁস রোধে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল।”
এ ছাড়া অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্নফাঁসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা থামবে না।
নতুন পরীক্ষার তারিখ কী হবে?
খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষা বাতিল হলেও দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন সময়সূচি জানানো সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়—
নতুন প্রশ্ন তৈরি,
নিরাপত্তা জোরদার,
এবং পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা—
এই তিনটি বিষয়ে কাজ চলছে।
চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার ইউনিট একযোগে কাজ করে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উৎস অনুসন্ধান করছে।
অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন,
“যারা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁসকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ড নিয়মিত অনুসরণ করুন।
ভুয়া নোটিশ বা অনলাইনে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সাবধান থাকুন।
পুরোনো এডমিট কার্ড ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা—পরবর্তী নোটিশে জানানো হবে।
প্রশ্নফাঁস এখন দেশের বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি পরীক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমকে ব্যাহত করে। তাই এই ঘটনার সঠিক তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা জোরদারই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment